আনাস [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ [সা:] কে বলতে শুনেছি : মহান আল্লাহ বলেন: হে আদম সন্তান ! যে যাব তুমি আমাকে আহ্বান করবে এবং আমার কাছে আশা-প্রত্যাশা করবে, তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন, কারো পরোয়া না করে আমি তোমাকে মাফ করব । হে আদম সন্তান ! তোমার পাপরাশি যদি আশমান পযর্ন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি আমার কাছে ক্ষমাপ্রর্থী হও, তাহলে কারো পরোয়া না করে আমি তোমার পাপরাশি ক্ষমা করে দেব । হে আদম সন্তান ! তুমি যদি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক না স্থাপন না করে পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার নিকট হাযির হও, তাহলে আমি তোমার নিকট পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে হযির হব ।
আল্লাহর নিকট আশা প্রত্যাশা করার ফযীলত ।
সওয়াবের দিক থেকে পরিবার পরিজনের জন্য যা কিছু ব্যয় করা হয় তা সবচেয়ে উত্তম ।
আবু হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে খরচ করেছ, একটি গদার্ন মুক্তির জন্য খরচ করেছ, একটি দীনার কোন মিসকিনকে দান করেছ এবং একটি দীনার পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ । উক্ত দীনারসমূহের মধ্যে যেটি তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ, সওয়াবের দিক থেকে সেটি সবোর্ত্তম । [মুসলিম-৯৯৫]
জুমার দিনে আগে মসজিদে গমন করার ফজিলত ।
আবু হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেন: জু’মার দিনে যে ব্যক্তি জানাবত থেকে পবিত্র হওয়ার উদ্দেশ্যে গোসল করে এবং নামাজের জন্য গমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল । যে পরবতর্ক্ষণে গমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল । যে তৃতীয়ক্ষণে গমন করে সে একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল । যে চতুথর্ক্ষণে গমন করে সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল । আর যে পন্চমক্ষণে গমন করে সে যেন একটি ডিম দান করল । অত:পর ইমাম যখন খুতবা দেয়ার জন্য বের হন তখন পেরেশতা মন্ডলী যিকর শোনার জন্য উপস্থিত হয়ে যান । [বুখারী-৮৮১ মুসলিম-৮৫০]
দ্বীনের পথে সংগ্রাম ।
আনাস [রা:] থেকে বণির্ত । রসুলুল্লাহ [সা:] তাঁর রবের কাছ থেকে বণর্না করেন, আল্লাহ বলেন : বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে এক বাহু পরিমাণ অগ্রসর হই । সে যখন আমার দিকে এক বাহু পরিমাণ অগ্রসর হয় আমি তার দিকে দু’বাহু পরিমাণ অগ্রসর হই । বান্দা যখন আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই । [বুখারী-৭৫৩৬]
মূত্যুর পর তিন ধরনের নেক আমল জারি থাকে ।
সন্তানের মৃত্যূতে ধৈয্য ধারণ ও সওয়াবের আশা করা ।
ওসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] এর কন্যাদের একজন তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠান এবং সংবাদ দিয়ে পাঠান যে, তাঁর বাচ্চা বা ছেলে মৃত্যূমুখে পতিত । রাসুলুল্লাহ [সা:] বার্তা বাহকে বলেন: তুমি ফিরে গিয়ে তাকে বল যে, আল্লাহ যা নিয়েছেন তাও তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তও তাঁরই । তাঁর নিকট প্রত্যেক জিনিসের সময় নির্ধারিত আছে । সুতরাং তাকে ধৈয্য ধারণ করার এবং সওয়াবের আশা করার নির্দেশ দাও । [বুখারী-৭৩৭৭. মুসলিম-৯২৩]
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের বাধা প্রদান ।
হুযাইফা [রা:] থেকে বণির্ত । রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ আছে ! তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং গহির্ত কাজ থেকে বাধা প্রদান করবে । তা না হলে অচিরেই তোমাদের উপর আল্লাহ তা’আলা শাস্তি নাযেল করবেন । তখন তোমরা দো’য়া করলে তা কবুল করা হবে না । [তিরমিযী-২১৬৯]
জিহাদ
আবু আবদুর রহমান যায়েদ বিন খালেদ জুহানী [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন জিহাদকারীকে তার জিহাদের সরন্জাম সরবরাহ করে দিল, সেও জিহাদ করল । অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি কোন গাযীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারে উত্তমরূপে প্রতিনিধিত্ব করল, সেও জিহাদ করল । [বুখারী-২৮৪৩. মুসলিম-১৮৯৫]
অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে ।
জাবির [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: তোমরা অত্যাচার করা থেকে বেঁচে থাকো । কেননা অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে । আর কাপর্ণ্য থেকে বেঁচে থাকো । কেননা কাপর্ণ্য তোমাদের পূববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং তাদের রক্তপাত করতে ও হারামকে হালাল করতে প্ররোচিত করেছে । [মুসলিম-২৫৭৮]
স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশকারী কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট হবে ।
আবূ সা’ঈদ খুদরী [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মার্যাদার দিক থেকে নিকৃষ্টতম হবে ঐ ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর সাথে শয্যা গ্রহণ করে এবং তার স্ত্রীও তার সাথে শয্যা গ্রহণ করে, তারপর তাদের পরস্পরের মিলন ও সহবাসের গোপন কথা লোকদের নিকট প্রকাশ করে । [মুসলিম-১৪৩৭]
নেক আমল ছাড়া বংশসুত্র কাউকে অগ্রগামী করতে পারে না ।
আবু হোরাইরা [রা] থেকে বর্ণিন । রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেন : যে ব্যাক্তি কোন মু’মিনের দুনিয়াবি কোন কষ্ট-বালাই দূর করবে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন । যে ব্যক্তি কোন অভবীকে স্বচ্ছল করবে, আল্লাহ তাকে ইহকালে ও পরকালে স্বচ্ছল করবেন । যে ব্যক্তি কোন মুসলমনের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন । আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য করতে থাকে । যে ব্যক্তি দ্বীনি বিদ্যার্জনের জন্য কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন । আল্লাহর ঘর (মসজিদ) – সমূহের মধ্যে কোন একটি ঘরে কোন সম্প্রদায় সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করতে থাকে এবং পরস্পর এর অনুশীলন-চর্চা করতে থাকে, তখন তাদের উপর শান্তি নাযেল হয়, দয়া ও করুনা তাদেরকে আবৃত করে নেয়, ফেরেশতাগণ তাদেরকে বেষ্টন করে নেন এবং এদের উল্লেখ তাদের সামনে করেন যারা তাঁর কাছে আছেন । যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয় তার বংশসূত্র তাকে অগ্রগামী করতে পারে না । [মুসলিম – ২৬৯৯]