নামাজে কাতার সোজা করা এবং ফাঁক না রেখে দাঁড়ানো ।

জাবির বিন সামুরা [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ [সা:] আমাদের কাছে এসে বলেলেন: ফেরেশতা মন্ডলী যেমন তাদের প্রভুর সামনে কাতারবদ্ধ হয় তোমরা কি তেমন কাতারবদ্ধ হবে না ? আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসুল ! ফেরেশতা মন্ডলী তাদের প্রভুর সামনে কিভাবে কাতারবদ্ধ হয় ? তিনি বললেন: তারা আগের কাতারগুলো পূর্ণ করে এবং মাঝখানে ফাঁক না রেখে মিলিতভাবে দাড়ায় । [মুসলিম-৪৩০]

মানুষের মৃত্যূর পর তিন ধরণের নেক আমল জারি থাকে ।

আবু হুরাইয়রা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন- যখন মানূষ মারা যায়, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় । ১. সাদাকা জারিয়া ২. এমন ইলম যা উপকার পাওয়া যায় ৩. নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে । [মুসলিম-১৬৩১]

কর্মের ফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল ।

আমীরুল মু’মিনীন আবূ হাফস উমার বিন খাত্তাব (রা:) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, সকল কাজের পরিণাম নিয়ত অনুযায়ী হবে । প্রত্যেক ব্যক্তি যে নিয়ত নিয়ে কাজ করবে সে তাই পাবে । সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়েছে, তার হিজরত আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে । পক্ষান্তরে যার হিজরত দুনিয়া লাভ বা কোন মেয়েকে বিয়ে করার নিয়তে হয়েছে তার হিজরত উক্ত উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই পরিগণিত হবে । [ বুখারী-৬৬৮৯. মুসলিম-১৯০৭ ]

আবু হুরাইরা আবদুর রাহমান বিন শাখর (রা:) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: মহান আল্লাহ তোমাদের শরীর এবং আকৃতির দিকে দেখেন না, বরং তোমাদের অন্তর ও কর্মের দিকে দেখেন । [ মুসলিম-২৫৬৪ ]

পছন্দনীয় এ অপছন্দনী স্বপ্ন ।

আবু সা'ঈদ খুদরী [রা:] থেকে বণির্ত তিনি রাসুলুল্লাহ [সা:]কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, সুতরাং সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রিয়জনদের কাছে বলে অপর বণর্নায় আছে সে যেন প্রিয়জন ছাড়া করো কাছে না বলে আর অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে, সুতরাং সে যেন তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রথর্না করে এবং কারো কাছে না বলে তাহলে তা তার কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না । [বুখারী-৬৯৮৫]

গর্ব বা অহংকার করা নিষিদ্ধ ।

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রা:] থেকে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেন যে, যারঅন্তরে অণু পরিমার অহংকার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না । একব্যাক্তি বলল: মানুষ পছন্দ করে যে, তার পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক । তিনিবললেন: নিশ্চই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন । কিবর বাঅহংকার হলো কোন ব্যাক্তির সদর্পে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকেতুচ্ছজ্ঞান করা । [মুসলিম-৯১]

 

আবু সাঈদ খুদরী [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনিবলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন যে, জান্নাত ও জাহান্তামের মধ্যে বিতর্ক হল ।জাহান্নাম বলল: দাম্ভিক ও উদ্ধতরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে । জান্নাত বলল:দুর্বল ও মিসকীনরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে । আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফয়সালাকরে দিলেন: জান্নাত ! তুমি আমার রহমত । যে বান্দার প্রতি আমি রহম করারইচ্ছা করব, তোমার দ্বারা তার প্রতি রহম করব । আর জাহান্নাম ! তুমি আমারআযাব । আমি যাকে আযাব দেয়ার ইচ্ছা করব, তোমার দ্বারা তাকে আযাব দিব ।তোমাদের উভকে পূর্ণ করা আমার দ্বয়িত্ব । [মুসলিম-২৮৪৭]

 

 

 

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবচেয়ে বেশী দয়ালু ও মেহেরবান ।

উমর বিন খাত্তাব [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ [সা:] কতিফয় যুদ্ধবন্দী নিয়ে আসলেন । তাদের মধ্যে এক বন্দিনী দৌড়াদৌড়ি করছিল । বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু দেখতে ফেলেই তাকে জড়িয়ে ধরত এবং বুকে তুলে নিয়ে দুধ পান করাত । রাসূলুল্লাহ [সা:] বলেন: তোমাদের কি ধারণা, এ মহিলাটি কি তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে ? আমরা বললাম না । রাসুল [সা:] বললেন আল্লাহর কসম ! এ মহিলাটি তার সন্তানের প্রতি যতটা অনুগ্রহশীল, আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি তার চেয়েও অনেক বেশী মহেরবান । [বুখারী-৫৯৯৯, মুসলিম-২৭৪৫}

একটি মানুষের মন্দ বা খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে ।

আবূ হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন- তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, দালালী করো না, ঘৃণা পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং তোমাদের কেউ অন্য কারো কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করবে না । আল্লাহর বান্দাগণ ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও । মুসলমান মুসলমানের ভাই । সে তার ভাইয়ের প্রতি অত্যাচার করবে না, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না এবং তাকে ব্যর্থ করবে না । তাকওয়া বা পাহেযগারী এখানে রয়েছে । বক্ষের দিকে ইংগিত করে তিনবার তিনি এ কথাটি বললেন । একটি মানুষের মন্দ বা খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে । প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের খুন, মাল ও মান-মযার্দা হারাম [মুসলিম-২৫৬৪]