গর্ব বা অহংকার করা নিষিদ্ধ ।

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রা:] থেকে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেন যে, যারঅন্তরে অণু পরিমার অহংকার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না । একব্যাক্তি বলল: মানুষ পছন্দ করে যে, তার পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক । তিনিবললেন: নিশ্চই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন । কিবর বাঅহংকার হলো কোন ব্যাক্তির সদর্পে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকেতুচ্ছজ্ঞান করা । [মুসলিম-৯১]

 

আবু সাঈদ খুদরী [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনিবলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন যে, জান্নাত ও জাহান্তামের মধ্যে বিতর্ক হল ।জাহান্নাম বলল: দাম্ভিক ও উদ্ধতরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে । জান্নাত বলল:দুর্বল ও মিসকীনরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে । আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফয়সালাকরে দিলেন: জান্নাত ! তুমি আমার রহমত । যে বান্দার প্রতি আমি রহম করারইচ্ছা করব, তোমার দ্বারা তার প্রতি রহম করব । আর জাহান্নাম ! তুমি আমারআযাব । আমি যাকে আযাব দেয়ার ইচ্ছা করব, তোমার দ্বারা তাকে আযাব দিব ।তোমাদের উভকে পূর্ণ করা আমার দ্বয়িত্ব । [মুসলিম-২৮৪৭]

 

 

 

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবচেয়ে বেশী দয়ালু ও মেহেরবান ।

উমর বিন খাত্তাব [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ [সা:] কতিফয় যুদ্ধবন্দী নিয়ে আসলেন । তাদের মধ্যে এক বন্দিনী দৌড়াদৌড়ি করছিল । বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু দেখতে ফেলেই তাকে জড়িয়ে ধরত এবং বুকে তুলে নিয়ে দুধ পান করাত । রাসূলুল্লাহ [সা:] বলেন: তোমাদের কি ধারণা, এ মহিলাটি কি তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে ? আমরা বললাম না । রাসুল [সা:] বললেন আল্লাহর কসম ! এ মহিলাটি তার সন্তানের প্রতি যতটা অনুগ্রহশীল, আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি তার চেয়েও অনেক বেশী মহেরবান । [বুখারী-৫৯৯৯, মুসলিম-২৭৪৫}

একটি মানুষের মন্দ বা খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে ।

আবূ হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন- তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, দালালী করো না, ঘৃণা পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং তোমাদের কেউ অন্য কারো কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করবে না । আল্লাহর বান্দাগণ ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও । মুসলমান মুসলমানের ভাই । সে তার ভাইয়ের প্রতি অত্যাচার করবে না, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না এবং তাকে ব্যর্থ করবে না । তাকওয়া বা পাহেযগারী এখানে রয়েছে । বক্ষের দিকে ইংগিত করে তিনবার তিনি এ কথাটি বললেন । একটি মানুষের মন্দ বা খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে । প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের খুন, মাল ও মান-মযার্দা হারাম [মুসলিম-২৫৬৪]

আল্লাহর নিকট আশা প্রত্যাশা করার ফযীলত ।

আনাস [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ [সা:] কে বলতে শুনেছি : মহান আল্লাহ বলেন: হে আদম সন্তান ! যে যাব তুমি আমাকে আহ্বান করবে এবং আমার কাছে আশা-প্রত্যাশা করবে, তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন, কারো পরোয়া না করে আমি তোমাকে মাফ করব ।  হে আদম সন্তান ! তোমার পাপরাশি যদি আশমান পযর্ন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি আমার কাছে ক্ষমাপ্রর্থী হও, তাহলে কারো পরোয়া না করে আমি তোমার পাপরাশি ক্ষমা করে দেব । হে আদম সন্তান ! তুমি যদি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক না স্থাপন না করে পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার নিকট হাযির হও, তাহলে আমি তোমার নিকট পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে হযির হব । 

সওয়াবের দিক থেকে পরিবার পরিজনের জন্য যা কিছু ব্যয় করা হয় তা সবচেয়ে উত্তম ।

আবু হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে খরচ করেছ, একটি গদার্ন মুক্তির জন্য খরচ করেছ, একটি দীনার কোন মিসকিনকে দান করেছ এবং একটি দীনার পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ । উক্ত দীনারসমূহের মধ্যে যেটি তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ, সওয়াবের দিক থেকে সেটি সবোর্ত্তম । [মুসলিম-৯৯৫]